বাসক পাতার ১৩টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কেননা বাসক পাতার এমন সকল গুনাগুন রয়েছে। যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা বয়ে আনে। তাই এর গুনাগুন জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
 
বাসক-পাতার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের দেওয়া লেখাগুলো খুব যত্ন সহকারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই মূলত আপনারা বাসক পাতার যাবতীয় গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সূচিপত্রঃ বাসক পাতার যাবতীয় গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতার যাবতীয় ভালো দিকগুলো এবং খারাপ দিকগুলো জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। বাসক পাতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী ঠিক তেমন অপকারিও। তাই এর ভালো দিকগুলো গ্রহন করতে হবে এবং খারাপ দিকগুলো বর্জন করতে হবে।

বাসক পাতার উপকারিতা গুলোঃ

  • অনেকে আপনারা চুলকানি অথবা দাদ এর সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনারা বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য প্রথমে আপনাদের বেশ কয়েকটি পাতা এবং সাথে এক টুকরো হলুদ নিতে হবে। এরপর এই দুইটি উপকরণকে একসঙ্গে বেটে সেই জায়গায় লাগাতে হবে। তাহলে দেখবেন অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যা দূর হয়ে গিয়েছে।
  • যারা জন্ডিস রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের জন্য বাসক পাতা অনেক উপকারী হতে পারে। এজন্য আপনাদের বাসক পাতা অথবা বাসক পাতার ফুলের রস সংগ্রহ করতে হবে। এবার এ রসের সাথে মধু অথবা চিনি মিস করে নিয়মিত খেলে এ ধরনের সমস্যা দূর হয়।
  • অনেকের শরীরে গন্ধ হয়। এই সমস্যা দূর করার জন্য বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য আপনারা চেষ্টা করবেন বাসক পাতার রস গায়ে মাখার। এটি যদি আপনি গায়ে মাখতে পারেন। তাহলে আপনার শরীরের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
  • অনেকের হাঁপানির রোগ রয়েছে। তারা এ সমস্যায় বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এটিকে আপনারা গোল করে তাতে আগুন দিয়ে জোরে জোরে টানবেন। এতে করে আপনার শ্বাসকষ্ট দূর হবে। আর এর ফলে হাঁপানি সমস্যা ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে।
  • যাদের মাড়ির সমস্যা রয়েছে। অর্থাৎ দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত বের হয়। তারা বেশ কয়েকটি বাসক পাতা নেওয়ার পর তা থেতলিয়ে নিবেন। এরপর একটি পাত্রে দুই কাপ মত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিবেন। তারপর আপনারা যখন দেখবেন এটি গরম করতে করতে এক কাপ পানির সমান হয়ে গেছে। তখন তা নামিয়ে নিবেন। এরপরে এই পানি দিয়ে কুলকুচি করতে থাকবেন। তাহলে দেখবেন আপনার দাঁতের মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যা দূর হয়ে গেছে।
  • আপনি যদি বুকে কফ অথবা শ্বাসকষ্ট কিংবা কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। তাহলে আপনারা বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য আপনারা বাসক পাতার রস নিয়ে তার সাথে মধু মিস করে দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এতে করে আপনার এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে যাবে।
  • আপনার যদি সর্দি-কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। তাহলে আপনারা বাসক পাতাকে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আপনারা প্রথমে বাসক পাতার রস নিবেন। এরপরে এই রস এর সাথে কিছু পরিমাণ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিবেন। এতে করে আপনার সর্দি কাসির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • বাসক পাতাতে এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি হুপিং কাশি, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি নানা সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এজন্য আপনারা বাসক পাতার রস দুই চামচ নিয়ে তার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে এ ধরনের সমস্যা দূর হবে।
  • বাতের ব্যথায় বাসক পাতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাথা নিরাময়ে আপনারা বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এই ব্যথা নিরাময়ে আপনারা বাসক পাতাকে সেদ্ধ করে সেই পানি পান করতে পারেন অথবা ব্যথা জায়গায় এই পাতা বেটে লাগাতে পারেন। তাহলে এ ধরনের সমস্যা দূর হবে।
  • মাংসপেশীতে টানের সমস্যায় বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য আপনারা প্রথমে চুন নিবেন, তারপর হলুদ নিবেন, তারপর বাসক পাতা নিবেন। এবার এই তিনটি উপকরণকে একসঙ্গে বেটে ব্যথা জায়গায় লাগিয়ে দিবেন। তাহলে দেখবেন এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে গেছে।
  • আমাদের শরীরে অনেক সময় ফোঁড়া উঠে থাকে। আর এর কারণে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এ সমস্যা প্রতিরোধ করার জন্য আপনারা চাইলে বাসক পাতাকে বেটে আক্রান্ত জায়গায় লাগাতে পারেন। তাহলে দেখবেন ব্যথার সমস্যা দূর হয়ে গেছে।
  • যাদের প্রস্রাব করার সময় জ্বালা যন্ত্রণা হয়। তারা চাইলে বাসক গাছের ফুলকে বেটে নিতে পারেন। এরপর তা মিছরির সঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। অর্থাৎ শরবত করে খাবেন। এভাবে বাসক গাছের ফুলের বাটা অংশ এবং মিছরি নিয়ে শরবত করে খেলে এ ধরনের জ্বালা যন্ত্রণা দূর হয়।
  • যাদের মাথায় উকুনের সমস্যা রয়েছে। তারা চাইলে বাসক পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। এজন্য আপনারা যখন গোসল করতে যাবেন তার ঠিক আগে বাসক পাতার রস মাথায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে গোসল করতে যাবেন। এরপর গোসল করে দিবেন। এতে করে আপনার উকুনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

বাসক পাতার অপকারিতা গুলোঃ

  • বাসক পাতা স্বাস্থ্যের জন্য নানা উপকারিতা বয়ে আনলেও এর কিছু খারাপ দিক রয়েছে। যেগুলো আমাদের বর্জন করা উচিত। যেমন ধরেন এটি অতিরিক্ত সেবন করা যাবে না। নইলে ক্ষতি হতে পারে। যারা গর্ভবতী মা রয়েছেন তারা এই সময় এটি খাওয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন। কেননা এটি এ সময় অতিরিক্ত খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।
  • এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এটি যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে এ ধরনের সমস্যা গুলো তৈরি হবে না। এছাড়াও এটি খাওয়ার ফলে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা হবে। তারা এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। যারা রক্তচাপের রোগী রয়েছেন। তারাও এটি খাওয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।

বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম

বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতার রস কিভাবে খাবেন তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। এই পাতার রস খাওয়ার জন্য প্রথমে পাতা সংগ্রহ করুন। এরপর এই পাতা ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর তা ব্লেন্ডারের ব্লেন্ড করে নিন।

এরপরে রস ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে ফেলুন। এরপর তা খাওয়ার জন্য তৈরি। তবে এ রসটি যেহেতু তেতো স্বাদ যুক্ত। তাই আপনারা চাইলে এর সাথে মধু মিস করে খেতে পারেন। তাহলে এটি খেতে বিরক্ত মনে হবে না। এটি আপনারা খালি পেটে অথবা খাবারের পর খেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ পেয়ারা পাতার উপকারিতা চুলের জন্য কি ধরনের জানুন চাঞ্চল্যকর তথ্য  

এটি যদি আপনারা দিনে কয়েকবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। তাহলে সময় অনুযায়ী খাবেন। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর খাবেন। তবে এটি টানা খাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। যে সমস্যাটার জন্য এটি খাচ্ছেন। সেটি ভালো হয়ে গেলে এটি খাওয়া বন্ধ করে দিবেন।

বাসক পাতার ঔষধি গুনাগুন

বাসক পাতার ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতার কেমন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

  • বাসক পাতার রস শ্বাসকষ্টের অথবা ব্রংকাইটিস এবং হাঁপানির সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনারা চাইলে এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে। বাসক পাতার রস খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া এটি রক্তের যাবতীয় টক্সিন উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে থাকে। এসব কিছুর পাশাপাশি এটি ত্বকের ব্রণের সমস্যা প্রতিরোধ করতেও ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • বাসক পাতা জ্বর, সর্দি, ঠান্ডা ইত্যাদি নানা সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। আপনাদের যদি এমন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। তাহলে অবশ্যই এই পাতাকে ব্যবহার করবেন। এছাড়াও আমাদের শরীরের কোথাও ক্ষতস্থানের সৃষ্টি হলে সেই স্থানে এই পাতা বেটে লাগাতে পারেন। তাহলে দেখবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরাম পাবেন। এছাড়াও এটি আমাদের শরীরের নানা রকম সংক্রমনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

লাল বাসক পাতার গুনাগুন

লাল বাসক পাতার গুনাগুন সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা লাল বাসক পাতার যাবতীয় গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

  • এই পাতাটি একটি ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন। এই পাতাটি বিভিন্ন সমস্যায় কাজ করে থাকে। যেমন ধরেন শরীরের কোথাও ফোঁড়া হলে অনেক ব্যথা অনুভব হয় অথবা শরীরের কোথাও ঘা হলে বা ক্ষতস্থান তৈরি হলে ব্যথার অনুভব হয়। এই সময় যদি আপনারা এই পাতা বেটে সেই আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে দিতে পারেন। তাহলে দেখবেন খুব সহজেই এই ব্যথা নিরাময় হয়ে যাচ্ছে।
  • আমাদের অনেক সময় হজমের সমস্যা হয়। আর হজমের সমস্যা হলে পেটব্যথা, গ্যাস, বদহজম, এসিডিটি ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধে এই পাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থাৎ আপনারা যদি এই পাতার রস খেতে পারেন তাহলে হজম প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত সম্পন্ন হয়। যার ফলে এ ধরনের সমস্যা গুলো অল্প সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।
  • আরো পড়ুনঃ বরই পাতার উপকারিতা এলার্জি নির্মূলে এই সম্পর্কে জানুন চাঞ্চল্যকর তথ্য  

  • এই পাতার একটি বিশেষ গুণ রয়েছে। এতে রয়েছে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিভাইরাল নামক দুইটি উপাদান। এই উপাদান দুইটি আমাদের শরীরের নানা রকমের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলে। যার ফলে শরীরে সহজে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রবেশ করতে পারে না। তাই সংক্রমণ দূরে রাখতে এটিকে কাজে লাগাতে পারেন।

বাসক পাতা কোথায় পাওয়া যায়

বাসক পাতা কোথায় পাওয়া যায় এ সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতা কোথায় পাওয়া যেতে পারে তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। এই গাছ সাধারণত গ্রামাঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়।

বাসক-পাতা-কোথায়-পাওয়া-যায়
অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলের ঝোপঝাড়, রাস্তার আশেপাশে এই গাছটি হয়ে থাকে। এই গাছ থেকে মূলত বাসক পাতা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও যে সকল নার্সারিতে অনেক ধরনের গাছ থাকে সেগুলোর মধ্যে এই গাছটিও থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও যে সকল দোকানে আয়ুর্বেদিক গাছ অথবা ওষুধ বিক্রি করা হয়ে থাকে। সেই দোকানেও এই গাছটি পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ এর পাতা।

এছাড়াও আপনারা এই পাতাকে অনলাইনের বিভিন্ন বড় বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটে খোঁজখবর নিলে পেতে পারেন। আশা করছি আপনারা এই পাতা কোথায় পাবেন তা জানতে পেরেছেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।

বাসক পাতার রস খেলে কি হয়

বাসক পাতার রস খেলে কি হয় এই সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতার রস খাওয়ার ফলে কি হতে পারে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

  • বাসক পাতার রস মূলত ঠান্ডা, কাশি এবং জ্বরের সমস্যায় খাওয়া হয়ে থাকে। এ সময়ে এটি খেতে পারলে এ ধরনের সমস্যা গুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও এই পাতার রস খাওয়ার ফলে আমাদের রক্ত পরিশোধন হয়ে থাকে। এছাড়াও এই পাতায় অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার কারণে এই পাতার রস খেলে যাবতীয় ধরনের প্রদাহ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি তেতো স্বাদ যুক্ত হওয়ায় আপনারা এটিকে মধুর সাথে মিস করে খেতে পারেন।
  • আরো পড়ুনঃ তুলসি পাতার ১৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন  

  • এ পাতার রস স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য খাওয়া হয়ে থাকে। তবে এই রস বেশি পরিমাণে খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়াও এই রস খাওয়ার ফলে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা হবে। তারা এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এছাড়াও যারা বিভিন্ন ধরনের রোগের সমস্যায় ওষুধ খাচ্ছেন। তারাও এই সময় এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। বিশেষ করে যারা গর্ভবতী মা রয়েছেন। তারা এই সময় এটি খাওয়া এড়িয়ে চলবেন। 

বাসক পাতার ব্যবহৃত অংশ

বাসক পাতার ব্যবহৃত অংশ সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতার ব্যবহৃত অংশগুলো সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। বাসক পাতাকে সরাসরি আমাদের শরীরে নানা কাজে ব্যবহার করা হয়।

যেমন ধরেন শরীরের কোথাও ঘা, ফোঁড়া অথবা ক্ষতস্থান তৈরি হলে তা প্রতিরোধ করার জন্য আপনারা বাসক পাতাকে বেটে সেই আক্রান্ত জায়গায় লাগাতে পারেন। এতে করে এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে থাকবে। এছাড়াও আপনারা বাসক পাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। কিছু বাসক পাতা তা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিবেন। এরপর এই রস ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে নিবেন। তারপরে রস মধুর সাথে মিস করে খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

এতে করে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টের সমস্যা সহ নানা ধরনের সমস্যা দূর হয়ে থাকবে। আপনারা বাসক পাতার অংশগুলোকে এভাবে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে এর যাবতীয় ঔষধি গুনাগুন গুলো শরীরে ধারণ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।

বাসক পাতা কিভাবে খায়

বাসক পাতা কিভাবে খায় এই সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। আজকের এই পর্বে আমরা বাসক পাতাকে কিভাবে খেতে হয় তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। বাসক পাতাকে রস আকারে খাওয়া যায়। এ রস তৈরি করার জন্য আপনাদের প্রথমে একটি ব্লেন্ডার এ কিছু বাসক পাতা নিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

বাসক-পাতা-কিভাবে-খায়
এরপর ছাঁকনির সাহায্যে এর যাবতীয় রস বের করে ফেলতে হবে। তারপরে রস খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হবে। তবে যেহেতু এর রস অনেক তেতো হয়ে থাকে। তাই আপনারা চাইলে এর সাথে মধু মিস করে দিতে পারেন। তাহলে তেতো আর লাগবে না। এর রস খালিপেটে অথবা কোন খাবার খাওয়ার পরে খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

এছাড়াও আপনারা চাইলে বাসক পাতাকে একটি পাত্রে ভালোভাবে গরম করে নিয়ে সেই পানি খেতে পারেন। এই পানি খাওয়ার ফলেও অনেক ধরনের রোগের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব হয়। আশা করছি আপনারা ধারণা পেয়েছেন বাসক পাতাকে কিভাবে খাওয়া যায় তা সম্পর্কে। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।

কাশির জন্য বাসক পাতা কিভাবে খেতে হয়

কাশির জন্য বাসক পাতা কিভাবে খেতে হয় এই সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। আজকের এই পর্বে আমরা কাশির জন্য কিভাবে আপনি বাসক পাতা খেতে পারেন তা সম্পর্কে এ টু জেড জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক। বাসক পাতা খাওয়ার ফলে কাশির সমস্যা দূর হয়ে থাকে। এটি কি আপনারা চায়ের সাথে খেতে পারেন।

এতে করে আপনার চাও খাওয়া হবে। আবার কাজের সমস্যাও দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও আপনারা বাসক পাতাকে কাজে লাগিয়ে কাশি দূর করতে পারেন। এজন্য আপনারা বাসক পাতার রস খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এই রসের সাথে মধু মিস করে দিবেন। তাহলে যেটা হবে এর তেতো স্বাদ দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও আপনারা বাসক পাতার পানি খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

অর্থাৎ একটি পাত্রে পানি দিয়ে বাসক পাতা গরম করে সেই পানি খেতে পারেন। এতে করে আপনার কাশি সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কাশির সমস্যা দূর করার জন্য আপনারা এ সকল পদ্ধতি গুলো কাজে লাগাতে পারেন। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।

লেখকের শেষ কথা 

উপরের আলোচনা থেকে আপনারা বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এসেছেন। আপনারা আরো জানতে সক্ষম হয়েছেন বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কেও। বাসক পাতা একটি ঔষধি গুণাগুণ সম্পূর্ণ গাছ। এ গাছটির পাতা আমাদের শরীরের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
 
অর্থাৎ এই পাতাকে আপনারা যদি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেন। তাহলে যথেষ্ট ফলাফল পাবেন। এই পাতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি নানা সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে থাকে। আপনারা যদি উপরের আলোচনাটি ভালোভাবে পড়ার চেষ্টা করেন। তাহলে এর যাবতীয় গুনাগুন সম্পর্কে জানতে সক্ষম হবেন। আশা করছি উপরের আলোচনাটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url