তুলসি পাতার ১৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
সূচিপত্রঃ তুলসী পাতার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসি পাতার যাবতীয় ভালো দিকগুলো এবং খারাপ দিকগুলো জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
তুলসি পাতার উপকারিতা গুলোঃ
- তুলসি পাতায় ইনফ্লেমেটরি নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি রক্তনালি পরিষ্কার রাখতে এবং দেহে রক্ত চলাচল সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য কাজ করে থাকে।
- তুলসি পাতাকে পেইনকিলার হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা এতে রয়েছে ইউক্যালিপটাস নামক এক ধরনের উপাদান। এই উপাদানটি শরীরের যে কোন ধরনের ব্যথা বা ফোলাভাব দূর করতে সক্ষম।
- তুলসি পাতায় হেপাটোপ্রোটেকটিভ উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি থাকার কারণে লিভারের কার্যকারিতা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে। যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে। তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তুলসি পাতার রস খেতে পারেন।
- তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি খেলে যাবতীয় ধরনের ঠান্ডা ও জ্বরের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।
- তুলসি পাতা গরম পানিতে গরম করে এই পানি খেলে পেটের যাবতীয় ব্যথা খুব সহজে দূর হয়ে যায়। যাদের পেটের ব্যাথা হয় তারা তুলসি পাতার গরম পানি খেতে পারেন।
- আপনারা যদি তুলসি পাতাকে বেটে মধু ও আদা মিশিয়ে খান, তবে সর্দির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
- তুলসি পাতা খাওয়ার ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বহু গুণে কমে যায়। যার ফলে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তাই তুলসি পাতা খেতে পারেন।
- অনেক সময় বমি বমি ভাব হতে পারে। এ সময় তুলসি পাতা খাওয়ার ফলে এ ধরনের সমস্যা দূর হয়।
- তুলসি পাতায় ফাইটো কেমিক্যাল নামক এক ধরনের উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলে। তাই ক্যান্সার মোকাবেলায় আপনারা তুলসি পাতা খেতে পারেন।
- গলা ব্যাথা সমস্যায় তুলসি পাতা বেস উপকারী। এছাড়াও এই পাতা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ দিয়ে থাকে। কিছু পানিতে তুলসি পাতা ফুটিয়ে গার্গল করলে গলা ব্যথা দূর হয়।
- তুলসি পাতা খাওয়ার ফলে রক্ত জমাট বাঁধা দূর হয়। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়। সেই সাথে আমাদের হার্টও সুস্থ থাকে।
- তুলসি পাতা খাওয়ার ফলে হজম শক্তি অনেক উন্নত হয়। যাদের হজম সহজে হয় না তারা তুলসি পাতা খেতে পারেন। আশা করছি উপকারিতা পাবেন।
- তুলসি পাতায় রয়েছে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদান। এই উপাদানটি আমাদের শরীর থেকে যাবতীয় ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে কাজ করে থাকে। এছাড়াও তুলসি পাতা আমাদের কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে থাকে।
- যাদের মাথা ব্যথা সমস্যা রয়েছে। তারা নিয়মিত এক থেকে দুইবার তুলসি পাতা খেতে পারেন। এটি মাথা ব্যথার সমস্যার সমাধান দিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
- তুলসি পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নামক এক ধরনের উপাদান। এই উপাদানটি আমাদের চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
- তুলসি পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ত্বকের দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে ত্বকের যাবতীয় দাগ ছোপের সমস্যা দূর করে থাকে।
- তুলসি পাতায় থাকা এন্টিবায়োটিক উপাদান ত্বকের সংক্রমণ এবং ত্বক পরিষ্কার রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
- তুলসি পাতায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটি আমাদের ত্বকের ব্রণ দূর করার জন্য কাজ করে থাকে।
- তুলসি পাতায় মাইক্রোবিয়াল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার কারণে এটি আমাদের দাঁতের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী।
তুলসি পাতার অপকারিতা গুলোঃ
- তুলসি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে। । তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা এ পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
- তুলসি পাতা প্রচুর পরিমাণে খাওয়ার ফলে রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- গর্ভাবস্থা অথবা স্তন্যপান করানোর সময় অতিরিক্ত তুলসি পাতা খাওয়া ক্ষতিকর হবে।
- এটি অতিরিক্ত খেলে শ্বাসকষ্ট, মূত্র এবং কাসির সাথে রক্ত যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- কাঁচা তুলসি পাতা খাওয়ার ফলে দাঁতে কালচে দাগ পরতে পারে।
- যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রয়েছেন তারা এটি খাওয়ার আগে সাবধান থাকবেন। কেননা এটি বেশি খাওয়ার ফলে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন কিছু খাওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই এটিও প্রয়োজন মত খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার যাবতীয় উপকারিতা গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে থাকে। যারা শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকেন। তারা চাইলে খালি পেটে সকালে তুলসী পাতা খাওয়া শুরু করতে পারেন। এই পাতা মেটাবলিজমের গতি বাড়িয়ে দিয়ে শরীর থেকে মেদ ঝরিয়ে দিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
- আমাদের অনেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেক বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন। এই দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধারের জন্য আপনারা চাইলে রোজ সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা খেতে পারেন। এই দুশ্চিন্তা একসময় একটি রোগে পরিণত হতে পারে। তাই এই দুশ্চিন্তার হাত থেকে উদ্ধারের জন্য নিয়মিত খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার ফলে আপনার ত্বকের অনেক বড় উপকার হবে। কেন এ কথা বললাম চলুন তা জেনে নিই। খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার ফলে শরীর থেকে যাবতীয় টক্সিন উপাদান বের হয়ে যায়। সেই সাথে ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল এবং দাগহীন। এই উপকারিতা পাওয়ার জন্য কিছু সপ্তাহে সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে চলবে না বরং একটানা কয়েক মাস খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলা হবে।
আরো পড়ুনঃ বরই পাতার উপকারিতা এলার্জি নির্মূলে এই সম্পর্কে জানুন চাঞ্চল্যকর তথ্য
তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতা কিভাবে খেলে উপকারিতা পাওয়া যাবে। সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- কিছু তুলসী পাতা নিয়ে রাতে একটি গ্লাসে ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এই ভিজিয়ে রাখা পানি খেয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার শরীর থেকে যাবতীয় টক্সিন উপাদান বের হয়ে গেছে। সেই সাথে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতেও এই পানি কাজ করে থাকবে।
- আপনারা সকলে ঘুম থেকে উঠে দুই থেকে তিনটি তুলসী পাতা নিয়ে সেগুলো চিবিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি নিয়মিত সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খাওয়ার ফলে হজম শক্তি দুর্বল থাকলে তা সবল হবে। সেই সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। এছাড়াও এই কাজটি নিয়মিত করার ফলে শরীর ডিটক্সিফাইও হয়ে উঠবে।
- আপনারা আর একটি পদ্ধতিতে তুলসী পাতা সেবন করতে পারেন। এই পদ্ধতিটি হল কয়েকটি তুলসী পাতা মুখে দিয়ে চিবাবেন। এরপর এক চামচ মধু সাথে নিবেন। এ কাজটি করার ফলে ঠান্ডা জাতীয় রোগ দূর হয়ে যাবে এবং সেই সাথে গলা ব্যথা সহ যাবতীয় গলার সমস্যা দূর হবে।
তুলসী পাতার ব্যবহার
তুলসী পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতার যাবতীয় ব্যবহার সম্পর্কে আপনাদের জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- তুলসী পাতাকে স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন ধরেন, ত্বকের সমস্যা দূর করার জন্য তুলসী পাতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করতেও তুলসী পাতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতেও তুলসী পাতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এভাবে স্বাস্থ্যের নানা উপকারিতায় তুলসী পাতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- তুলসী পাতাকে এশিয়া এবং ইতালিতে রান্নায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করে থাকে। তাছাড়াও এটি সালাদ, বিভিন্ন প্রকার স্যুপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি অনেক সময় বিভিন্ন জুস তৈরি করতেও ব্যবহার হয়ে থাকে।
- তুলসী পাতার গন্ধ মশা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও মশা কামড়ালে সেই জায়গায় যদি তুলসী পাতা ব্যবহার করা হয় তাহলে নিরাময় পাওয়া সম্ভব হয়।
আরো পড়ুনঃ করলার জুসের ১৫টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
ত্বকের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার
ত্বকের যত্নে তুলসী পাতার ব্যবহার সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা ত্বকের যত্নে কিভাবে আপনি তুলসী পাতাকে ব্যবহার করবেন তা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- ত্বকের সমস্যা দূর করার জন্য তুলসী পাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এজন্য আপনাদের তিলের তেল নিতে হবে এবং এই তেলের ভেতর তুলসী পাতা ফেলে দিয়ে হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপর তা ত্বকে লাগিয়ে দিতে হবে। এই কাজটি করার ফলে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি দূর হয়ে যাবে।
- আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আপনাকে এক মুঠো টাটকা তুলসী পাতা নিয়ে বেটে নিতে হবে। এরপর এতে এক চামচ টক দই মিশিয়ে দিন। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর্যন্ত রাখুন। এরপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি করার ফলে আপনার ত্বক কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
- ব্রণের সমস্যা দূর করতে তুলসী পাতাকে ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য প্রথমে তুলসী পাতা ও নিমপাতাকে একসঙ্গে করে বেটে নিন। এরপর এক চামচ হলুদ এতে মিশিয়ে দিন। তারপর ত্বকের যে জায়গায় ব্রণ রয়েছে। সেই জায়গায় লাগিয়ে দিন। সপ্তাহে তিনবার এই কাজটি করার ফলে আপনার ব্রনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
চুলে তুলসী পাতার উপকারিতা
চুলে তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতা কিভাবে চুলের জন্য উপকারিতা বয়ে আনে তা জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- তুলসী পাতা চুলে ব্যবহার করার ফলে চুল কালো ও ঝলমলে হয়ে ওঠে। এজন্য আপনাকে প্রথমে মেহেদী পাতার গুড়ার সঙ্গে তুলসী পাতার গুড়া একসঙ্গে মিস করে নিতে হবে। এরপর চায়ের লিকার দিয়ে সারারাতের মতো ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর এই মিশ্রণটিকে পরের দিন চুলের গোড়ায় বিশ মিনিট মতো লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ কাজটি করার ফলে চুল কালো ও ঝলমলে হয়ে উঠবে।
- তুলসী পাতা ব্যবহার করে চুল পাকা প্রতিরোধ করতে পারেন। এজন্য প্রথমে আপনাকে দুই চামচ তুলসী পাতা নিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপরে সাথে এক চামচ মেথি গুঁড়া মিস করতে হবে। এরপর এই পেস্টটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে দিতে হবে। ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর আপনাকে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনিং করতে হবে। এ কাজটি করার ফলে আপনার চুল পাকা প্রতিরোধ হবে।
- চুলের খুশকি অবস্থায় আপনি তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য প্রথমে আপনাকে আপনি মাথায় যে তেল মাখেন তার সাথে তুলসী পাতার রস মিস করে দিতে হবে। তারপর ভালো হবে চুলের স্কাল্পে এই তেল লাগাতে হবে। এতে করে আপনার মাথায় থাকা চুলকানি, খুশকি, রুক্ষ ভাব দূর হয়ে চুল স্বাস্থ্য উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
আরো পড়ুনঃ তেজপাতার ১৮টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন
তুলসী পাতার ক্ষতিকর দিক
তুলসী পাতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতার যাবতীয় ক্ষতিকর দিক আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
- যাদের আগে থেকেই এলার্জির সমস্যা রয়েছে। তারা এই পাতা ব্যবহার করা বা খাওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন। কেননা এই পাতা খাওয়ার ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। যার ফলে ত্বকের চুলকানি, ফোলাভাব দেখা দেই।
- অতিরিক্ত এই পাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করতে হবে। কেননা এটি অতিরিক্ত খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। এটি খালি পেটে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে।
- যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন। তাদের জন্য তুলসী পাতা খাওয়া নিরাপদ হবে না।
- গর্ভবতী মায়েদের এই পাতা খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা
তুলসী পাতার চা এর উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতার চা খাওয়ার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। তুলসী পাতার চা খাওয়ার ফলে ঠান্ডা জ্বর এমনকি সর্দির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও এ-চা খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যের আরো নানা উপকারিতা হয়ে থাকে।
আরো পড়ুনঃ কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার ১৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
এই চা বানানোর জন্য আপনাকে একটি প্যান নিয়ে তাতে এক কাপ গরম পানি দিয়ে কয়েকটি তুলসীপাতা দিয়ে দিন। তারপর চা হয়ে এলে খাওয়া আরম্ভ করতে পারেন। তবে আপনি এর সাথে মধু অথবা লেবুর রস মিস করতে পারেন। এতে চায়ের স্বাদ আরো মজাদার হবে। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
তুলসী পাতার রস মুখে দিলে কি হয়
তুলসী পাতার রস মুখে দিলে কি হয় এই সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। আজকের এই পর্বে আমরা তুলসী পাতার রস মুখে দেওয়ার ফলে কি ধরনের উন্নতি হয় তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। তুলসী পাতার রস মুখে দেওয়ার ফলে ত্বকের অনেক সমস্যা প্রতিরোধ হয়ে থাকে। এছাড়াও মুখের দুর্গন্ধ দূর হতেও তুলসী পাতার রস আপনি খেতে পারেন।
তাছাড়াও তুলসী পাতার রস মুখে মাখলে মুখের থাকা যাবতীয় ধরনের ঘা অথবা ইনফেকশন খুব সহজেই প্রতিরোধ হয়ে থাকে। তবে যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে। তারা তুলসী পাতার রস মুখে মাখার সময় সতর্ক থাকবেন। তাহলে বুঝা গেল তুলসী পাতার রস মুখে মাখলে এ ধরনের সুবিধা গুলো হয়ে থাকে। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে তুলসি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।
রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url