সবরি কলার ১৭টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কেননা এই কলাটি খাওয়ার মাধ্যমে আশ্চর্য রকমের উপকারিতা পাওয়া যায়। তাই এর গুণাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত জানা অনেক বেশি জরুরী।

সবরি-কলার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের দেওয়া লেখাগুলো খুব যত্ন সহকারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আপনারা এই কলার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে জানতে সক্ষম হবেন।

সূচিপত্রঃ কলার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন

সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এ পর্বে আমরা সবরি কলার যাবতীয় ভালো দিক এবং খারাপ দিকগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। সবরি কলার যেমন ভালো দিক রয়েছে ঠিক তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। চলুন আমরা দুই দিক সম্পর্কেই জেনে আসি।

সবরি কলার উপকারিতা গুলোঃ
  • সবরি কলা কলার রাজা। এটি খেতে যেমন মিষ্টি এবং সুস্বাদু ঠিক তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এই কলা আমাদের দেশে অনেক বেশি জনপ্রিয়। এই কলা আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি ইন্টার্নাল কোষ ও রেডিক্যাল কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • সবরি কলায় উচ্চ পটাসিয়াম এবং কম সোডিয়াম রয়েছে। যার কারণে এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই সাথে হার্ট অ্যাটাক এবং স্টকের ঝুঁকি থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব হয়।
  • সবরি কলায় আইরন রয়েছে। যার কারণে এটি রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য অনেক বেশি কার্যকর। যাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ কম রয়েছে। তারা নিয়মিত সবরি কলা খেতে পারেন।
  • সবরি কলায় উচ্চ পরিমানে কার্বোহাইড্রেট এবং সুগার থাকায় এটি খাওয়ার ফলে শক্তি পাওয়া যায়। দুইটা সবরি কলা খাওয়ার ফলে টানা ৯০ মিনিট শক্তি পাওয়া যায়।
  • সবরি কলায় আঁশ রয়েছে। যার কারণে এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয় এবং হজম প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়।
  • সবরি কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকার কারণে এটি খাওয়ার ফলে হার্টের পেশীগুলো তাজা থাকে। সেই সাথে এটি খাওয়ার ফলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ হয়।
  • সবরি কলা খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। এতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম কিডনিতে পাথর হওয়া এবং কিডনির যাবতীয় রোগ থেকে কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।
  • সবরি কলা খাওয়ার ফলে আলসারের অর্থাৎ পেটের আলসারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। যাদের এই ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা এই কলাটি খেতে পারেন।
  • সবরি কলায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন রয়েছে। যা আমাদের শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
  • সবরি কলায় ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে আমাদের শরীরের কোষকে অকালে নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।
  • এই কলাতে থাকা ভিটামিন ই যৌবন ধরে রাখতে এবং ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • এই কলা খাওয়ার ফলে আমাদের মন ভালো থাকে। মানসিক চাপ কমে থাকে। আর এর কারণে সুন্দর ঘুম হয়। তাই এই সমস্যাগুলো দূরে রাখার জন্য সবরি কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • এই কলাতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম বিষন্নতা দূর করতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • সবরি কলাতে থাকা ভিটামিন বি৬ রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।
  • এই কলাতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে।
  • সবরি কলাতে থাকা ভিটামিন এ প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
  • নিয়মিত একটি করে সবরি কলা খাওয়ার ফলে স্মৃতিশক্তি তুখার হয় অর্থাৎ মেধা অনেক ভালো হয়।
সবরি কলার অপকারিতা গুলোঃ

সবরি কলা খাওয়ার ফলে অনেক ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে যারা খালি পেটে এ কলা খাবে তাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যাবে। যাদের দেহে পটাশিয়ামের লেভেল অনেক বেশি তাদের সবরি কলা খাওয়া উচিত নয়। যাদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ সফেদা ফলের ১৯টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন    

তারা এ কলা কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। না তো তা আরো বেড়ে যাবে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের এই কলা না খাওয়াই ভালো। এতে সুগার বেশি থাকার কারণে সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে। এতে সামান্য পরিমাণ অপকারিতা থাকলেও এ কলা খাওয়ার ফলে উপকারিতাই বেশি পাওয়া যাবে। 

গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব। কাঁচা কলা গর্ভাবস্থায় খাওয়া অনেক উপকারী। এটি খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মায়ের নানা অসুখ বিসুখ দূরে থাকে। চলুন জেনে নেই গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা গুলোঃ

  • কাঁচা কলায় ভিটামিন, মিনারেল সহ আরো অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে। যেগুলো গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের জন্য অনেক উপকারী।
  • কাঁচা কলায় থাকা উচ্চ ভিটামিন বি৬ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। যার ফলে গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা একজন মায়ের জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাদ্য তালিকায় রাখলে এতে থাকা ভিটামিন বি৪ রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। এছাড়াও শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেননা এই কলা খেলে শরীরে ফাইবার পাওয়া যায়। যেটি পেট অনেকক্ষণ যাবৎ ভর রাখে। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কেননা এই কলাতে থাকে আঁশ। যেটি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়াও এই কলাতে থাকা ভিটামিন বি৬ যেটি গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে। যার ফলে এই সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার ফলে হৃদরোগের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যেটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ  রয়েছে, তারা উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত কাঁচা কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পূর্ণ হয়। এছাড়াও পেটের ভেতরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করতে এটি সহায়তা করে থাকে। তবে অতিরিক্ত পেট ফোলার সমস্যা থাকলে এই কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কেননা এটি এ অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কলাতে থাকা পুষ্টি উপাদান

কলাতে থাকা পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে আপনারা জানলে অবাক হবেন। এতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী। এই পুষ্টি উপাদান গুলোই আমাদের শরীরকে নানা রকমের অসুখ বিসুখ থেকে দূরে রাখতে কাজ করে থাকে। তাই চলুন এর পুষ্টিগুণ গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরি।

প্রতি ১০০ গ্রাম কলায়
শর্করা রয়েছে ৭.২%, আমিষ রয়েছে ১.২%, খনিজ লবণ রয়েছে ০.৮%, ক্যালসিয়াম রয়েছে ৮৫ মিলিগ্রাম, আয়রন রয়েছে ০.৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস রয়েছে ৫০ মিলিগ্রাম, মোট ক্যালোরি রয়েছে ১১৬ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে ৮ মিলিগ্রাম।

সাগর কলা খাওয়ার উপকারিতা

সাগর কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা সাগর কলা খাওয়ার ফলে কি ধরনের উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। সাগর কলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। চলুন এই কলাতে থাকা পুষ্টিগুণগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

  • সাগর কলায় ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ রয়েছে। এই ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরকে প্রশান্তি দিয়ে থাকে এবং সেই সাথে সুন্দর ঘুম হওয়ার জন্য সাহায্য করে।
  • সাগর কলাতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস। এই ম্যাগনেসিয়াম দাঁতের কার্যকারিতা এবং শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে এতে থাকা ফসফরাস দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে।
  • সাগর কলায় রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬। এটা থাকা ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ভূমিকা রাখে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর ভিটামিন বি৬ ইনসুলিন উৎপন্ন করে এবং মেটাবলিজম উন্নত করতে সহায়তা করে থাকে।
  • সাগর কলাতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন রয়েছে। যেটি আমাদের হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে থাকে।
  • সাগর কলাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরকে পুষ্টি সরবরাহ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

দুধ কলা খাওয়ার উপকারিতা

দুধ কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা দুধ কলা খাওয়ার ফলে উপকারিতা পাওয়া যায় না যায় না সেই সম্পর্কে আপনাদের সামনে আলোচনা করার চেষ্টা করব। দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটি খাওয়ার ফলে উপকারিতা নয় অপকারিতা হয়। চলুন তাই এর খারাপ দিকগুলো দেখে আসিঃ

দুধ-কলা-খাওয়ার-উপকারিতা

  • দুধ কলা একসঙ্গে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে আমাদের শরীর খুব সহজে হজম করতে পারে না। এছাড়াও দুধ ও কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে সাইনাস ও সর্দি কাশির সমস্যা দেখা দেয়।
  • অনেকে মনে করেন দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে পুষ্টিবিদরা এটি মানতে নারাজ। দুধ এমনি খেলে বা কলা এমনি খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে এই দুইটা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে কোন ধরনের উপকারিতা হয় না বরং ক্ষতি হয়।
  • দুধ ও কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। দুধ খাওয়ার ফলে শরীর ঠান্ডা হয়।আবার কল খাওয়ার ফলেও ঠান্ডা হয়। যার ফলে এই দুইটি একসঙ্গে খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ব্যাপক ক্ষতিকর।
  • দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়ার ফলে পাচনতন্ত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এছাড়াও এটি খাওয়ার ফলে কফ অথবা এলার্জির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই দুটি একসঙ্গে খাওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার।
  • শ্বাসকষ্ট সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা ভুলেও দুধ এবং কলা একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এটি একসঙ্গে খেলে আপনাদের শরীরের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা

সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা সকালে কলা খাওয়ার যাবতীয় ভালো দিকগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব। কলা একটি উপকারী ফল। এটি বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে। যেই জাতের হোক না কেন। এর উপকারিতা ব্যাপক। চলুন সকলের কলা খেলে কি ধরনের উপকার পাওয়া যায় তা দেখে আসি।

  • সকালে কলা খাওয়ার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেননা কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপের রোগী রয়েছেন। তারা চাইলে সকালবেলা কলা খেতে পারেন। এটি তাদের জন্য অনেক উপকারী হবে।
  • সকাল বেলা কলা খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যাদের এই ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা সকাল বেলা কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে তাদের এ ধরনের সমস্যা দূর হবে।
  • কলা খাওয়ার ফলে ক্যালরির চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। এতে রয়েছে ১০০ ক্যালরি। যা আমাদের শরীরের ক্যালরি ঘাটতি পূরণ করতে ব্যাপক সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন খনিজ উপাদান, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান গুলো আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক বেশি কাজ করে। এজন্য তাই পুষ্টিবিদরা সকালে কলা খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
  • সকাল বেলা কলা খেলে মানসিক অবসাদ কমে থাকে। এছাড়াও শরীরের টক্সিন উপাদান কে বের করে দিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে তুলতে কাজ করে থাকে কলা। আবার সকালবেলা কলা খাওয়ার ফলে শরীরে পটাশিয়াম ও ফাইবার পাওয়া যায়। যার ফলে অনেকক্ষণ যাবত পেট ভরা থাকে। যার কারণে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
  • সকাল বেলা কলা খাওয়ার ফলে কলাতে থাকা আয়রন লোহিত রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে। যার ফলে অ্যানিমিয়া রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই যারা অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত তারা সকালবেলা কলা খেতে পারেন।

এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কেও জেনে আসতে পারেন।

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা

রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা রাতে কলা খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কেমন উপকারী তা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। সকালবেলা ফল খাওয়া সবচাইতে উপকারী। কলা ঠিক তেমনি একটি ফল। এটি সকাল বেলা খেলে সবচাইতে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

তবে যারা ভাজাপোড়া পছন্দ করেন, তারা যদি বিকেলবেলা ভাজাপোড়া খায় এবং এর ফলে যে জ্বালাপোড়া হয় রাতে কলা খেলে সেই জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে রাতে কলা খাওয়ার ফলে যাদের বিশেষ করে সর্দি-কাশির সমস্যা রয়েছে। তাদের জন্য মোটেও ভালো হবে না। যেহেতু এটি ঠান্ডা জাতীয় ফল সেহেতু এটি খাওয়া সর্দি কাশিতে আক্রান্ত রোগীর জন্য বিপদজনক।

আরো পড়ুনঃ কিউই ফলের ১৬টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন  

এছাড়াও রাতে কলা খাওয়ার ফলে সহজে হজম হয় না। যার কারণে আলসেমি ভাব চলে আসে। তাই বিশেষ কারণ ছাড়া রাতে কলা খাওয়া ঠিক নয়। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও জেনে আসতে পারেন।

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এ পর্বে আমরা নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে কি ধরনের উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। কলা অনেক উপকারী। এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে মিলবে আশ্চর্য রকমের উপকারিতা। চলুন সেই উপকারিতা গুলো দেখে নিই।

নিয়মিত-কলা-খাওয়ার-উপকারিতা

  • নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। যারা উচ্চ রক্তচাপের রোগী রয়েছেন তারা নিয়মিত কলা খাওয়া চেষ্টা করুন। এটা থাকা নানা পুষ্প উপাদান আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকবে।
  • নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে থাকে। যারা রক্তশূন্যতাই ভুগছেন। তারা আজ থেকেই নিয়মিত কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি খাওয়ার ফলে শরীর রক্তে পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে এটি খাওয়ার ফলে রক্তের ঘাটতি পূরণ হয়ে রক্তশূন্যতা দূর হবে।
  • নিয়মিত কলা খাওয়ার ফলে মানসিক চাপ কমে থাকে। যারা অনেক সময় কোন কাজের জন্য মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। যাদের এই সমস্যাটা প্রায় হয়ে থাকে। তারা নিয়মিত কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। কলাতে থাকা পুষ্টিকর উপাদান মানসিক চাপ কমিয়ে আপনাকে সতেজ করে তুলবে।
  • যারা নিদ্রাহীনতায় ভুগেন। রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বড়ি একের পর এক খেয়েই চলছেন। তবুও কাজ হচ্ছে না তাদের জন্য কলা হতে পারে একটি আদর্শ ওষুধ। এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও জেনে আসতে পারেন।

বেশি কলা খেলে কি হয়

বেশি কলা খেলে কি হয় এ সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন আজকের এ পর্বে আমরা অতিরিক্ত পরিমাণে কলা খাওয়ার ফলে কি ধরনের অপকারিতা হতে পারে তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব। একটা কথা সবসময় মাথায় রাখবেন শুধু কলা নয় কোন কিছুই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো কিছু বয়ে আনে না। কলা একটি ঠান্ডা জাতীয় ফল।

এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে সর্দি কাশি, ঠান্ডা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও এই ফলটি কার্বোহাইড্রেট ও সুগার সমৃদ্ধ। যার কারণে এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়াও এই ফলটি রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া হলে ঠিকমতো ঘুম না আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়াও এটি প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুনঃ জাম্বুরার ১৮টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন  

এছাড়াও এই ফলটি অতিরিক্ত খেলে গ্যাস, এসিডিটি, পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি নানা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই প্রয়োজনমতো খাওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়াও আপনারা চাইলে উপরের আলোচনা থেকে সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কেও জেনে আসতে পারেন।

লেখকের শেষ কথা 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা সবরি কলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে এসেছি। আমরা আরো জানতে সক্ষম হয়েছি গর্ভাবস্থায় কাঁচা কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কেও। কলার বিভিন্ন জাত রয়েছে। প্রতিটি জাতই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী। কলার ভেতরে এমন সকল পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপরের আলোচনাতে বিভিন্ন জাতের কলার উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি উপরের আলোচনাটি পড়ার মাধ্যমে কলার যাবতীয় গুণাবলী সম্পর্কে জানতে সক্ষম হবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url