অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় তা সম্পর্কে আশ্চর্যকর তথ্য জেনে নিন

অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় এ সম্পর্কে আপনাদের জেনে নেওয়া দরকার। বর্তমান সময়ে অ্যানিমিয়া একটি জটিল রোগ। এ রোগের হাত থেকে বেঁচে থাকা অনেক বেশি প্রয়োজন। তাই এর চিকিৎসা জানা দরকার।

অ্যানিমিয়া-কিসের-অভাবে-হয়
অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে নিচের দেওয়া লেখাগুলো খুব যত্ন সহকারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই আপনারা অ্যানিমিয়া হওয়ার যাবতীয় কারণ এবং প্রতিকার জেনে নিতে পারবেন।

সূচিপত্রঃ অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয়

অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় এই সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা চেষ্টা করব কিসের অভাবে অ্যানিমিয়া হতে পারে তা জেনে নেওয়ার। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে তাকে অ্যানিমিয়া বলে। অ্যানিমিয়া সাধারণত আয়রনের অভাবে হয়ে থাকে। আয়রনের অভাবসহ আরো কিছু কারণে অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে।

চলুন আমরা তা দেখে আসি। শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এছাড়াও আয়রনকে ভালোভাবে শোষণ করা অনেক বেশি দরকার। আর শুধুমাত্র ভিটামিন সিই আয়রনকে শোষণ করতে পারে। এজন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। যেমন ধরেন গোলমরিচ, বাতাবি লেবু, আমলকি, টমেটো, পেঁপে, আঙ্গুর ইত্যাদি।

এসব ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। যেহেতু আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গুলো খাওয়া প্রয়োজন। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে কচু শাক, চিংড়ি, পালং শাক, খেজুর, লাল মাংস, দেশি মুরগির কলিজা ইত্যাদি। এইসব আয়ন সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়ার ফলে অ্যানিমিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অ্যানিমিয়া হওয়ার পিছনে আরেকটি কারণ হলো ভিটামিন ১২ বা ফোলেটের অভাব। ভিটামিন ১২ বা ফোলেট হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য প্রয়োজনমতো মাংস খেতে হবে। তাহলেই ভিটামিন ১২ বা ফোলেটের ঘাটতি হবে না। এর ফলে অ্যানিমিয়া হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। রক্ত ক্ষয়ের কারণেও অ্যানিমিয়া হতে দেখা যায়। অ-স্টেরয়েডাল,গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ইত্যাদি সমস্যার কারণে আমাদের শরীর থেকে রক্ত ক্ষয় হয়ে যায়। যা অ্যানিমিয়া সৃষ্টির জন্য অনেকাংশে দায়ী।

রক্ত স্বল্পতার কারণ ও প্রতিকার

রক্ত স্বল্পতার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের পর্বে আমরা চেষ্টা করব রক্তস্বল্পতা হওয়ার কারণ গুলো কি এবং এখান থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় তা সম্পর্কে। চলুন এ সম্পর্কে জেনে আসা যাক।

রক্তস্বল্পতার কারণ গুলোঃ

  • ভিটামিনের অভাবে আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • সংক্রমণ, অটোইমিউন ডিসঅর্ডার এবং সেই সাথে কিছু ওষুধের কারণে রক্তস্বল্পতা হয়।
  • বংশগত রক্তস্বল্পতার কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • শরীরে লোহার ঘাটতির অভাবে রক্তস্বল্পতা হতে দেখা যায়।
  • ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • খাবারে পর্যাপ্ত আয়রনের অভাব হলে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • দীর্ঘকালীন অসুস্থ থাকার কারণে রক্ত সল্পতা হয়ে থাকে।
  • অস্থিমজ্জার বিভিন্ন রোগের কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • শরীরের অভ্যন্তরে প্রচুর রক্তপাত হওয়ার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
  • আরবিসি কমার কারণে রক্ত সল্পতা হয়ে থাকে।
  • ত্রুটিযুক্ত আরবিসি উৎপাদনের জন্য রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
  • আরবিসি ধ্বংসের কারণেও রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • পুষ্টিহীনতা এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি জনিত কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।
  • অনেকদিন যাবত ব্যথার ওষুধ খাওয়ার ফলে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে।

রক্তস্বল্পতার প্রতিকারঃ

রক্তস্বল্পতা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র রক্তশূন্যতার হাত থেকে বাঁচা যাবে। এজন্য আপনাকে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন লেবু, টক জাতীয় ফল, ইত্যাদি ফলগুলোতে ভিটামিন সি রয়েছে। যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও আপনাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাকসবজি, কচু ইত্যাদি আয়ন সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও আমাদের চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও আপনাকে নিয়মিত এক চামচ মধু এবং এক চামচ ভিনেগার একসঙ্গে করে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এটি রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য কাজ করে।

এছাড়াও আপনি রক্তসল্পতা দূর করার জন্য ধনেপাতা, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, কালো আঙ্গুর, তরমুজ, ডালিম, বেদানা ইত্যাদি খাবারগুলো খাইতে পারেন। এগুলো রক্তসল্পতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়াও রক্তশূন্যতা হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়াটাই এর সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।

অ্যানিমিয়া বলতে কি বুঝায়

অ্যানিমিয়া বলতে কি বুঝায় সে সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আমাদের শরীরে সাধারণত যখন রক্তে রেড ব্লাড সেল অথবা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায় তখন তাকে অ্যানিমিয়া বলে। এই রোগটি সাধারণত মেয়েদের কাছে অনেক বেশি পরিচিত। শুধু মেয়ে বললেই ভুল হবে ছেলেরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি। অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, মাথায় যন্ত্রণা অনুভব হয় এবং সেইসাথে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথার মত সমস্যা তৈরি হয়।

এছাড়াও জর, ডায়রিয়া এবং জন্ডিসের মতো ভয়াবহ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যদি নারীদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১২০ গ্রাম এর কম হয় এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১৩৫ গ্রামের কম হয়। তাহলে বুঝে নিতে হবে অ্যানিমিয়া রোগটি হয়েছে।

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য ঘরোয়া কি পদ্ধতি ব্যবহার করলে এই সমস্যা দূর হবে তা সম্পর্কে জেনে নেব। আমরা আসলে অনেকে গরুর মাংস খেতে চাই না। এর কারণ কি? কারণ আমরা জানি গরুর মাংস খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।

এই ভয়ে আমরা গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকি। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন গরুর মাংসের কলিজা খেলে রক্তশূন্যতা দূর হয়। আপনি যদি টানা ১০ থেকে ১৫ দিন গরুর মাংস বা এর কলিজা ৮৫ গ্রাম করে খেতে পারেন। তবে আপনার রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। তবে মাথায় রাখতে হবে গরুর মাংস বা কলিজা খাওয়ার আগে এতে যাতে খুব অল্প পরিমাণ তেল বা মসলা ব্যবহার করা হয়।

তাহলে এর সঠিক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এগুলোতে ওমেগা৩, আইরন, আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে। যা মূলত রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য ভূমিকা রাখে। এজন্য আপনি চাইলে সপ্তাহে অন্তত একদিন অথবা দুই দিন সামুদ্রিক মাছ আপনার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে পারেন। এছাড়াও চিংড়ি, তরমুজ বেদানা, কলা ইত্যাদি ফল খাওয়ার ফলে রক্তশূন্যতা দূর হয়ে থাকে।

অ্যানিমিয়া হলে কি হয়

অ্যানিমিয়া হলে কি হয় এই সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। চলুন আজকের এই পর্ব থেকে অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে কি ধরনের সমস্যায় আপনি পড়তে পারেন তা জেনে নিই। আপনার অ্যানিমিয়া হয়েছে। আর আপনি এর সঠিক চিকিৎসা নিচ্ছেন না। এর ফলে আপনার শরীরে তীব্র ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব হতে পারে।

অ্যানিমিয়া-হলে-কি-হয়
এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে অকালে শিশুর জন্ম হতে দেখা যায়। এটির যদি আপনি সঠিক চিকিৎসা না করান তবে জীবন হুমকির মুখে পড়ে যাবে। এছাড়াও আপনি শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভুগতে পারেন। ঘন ঘন মাথা ব্যথা হতে পারে, বুকধরপর করার মত সমস্যায়ও পরতে পারেন।

তাই অ্যানিমিয়া হওয়ার পর এর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অনেক বেশি জরুরী। এছাড়াও উপরের আলোচনা থেকে আপনারা অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় এবং রক্ত স্বল্পতার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে আসতে পারেন।

গর্ভবতী মায়ের রক্তশূন্যতা দূর করার উপায়

গর্ভবতী মায়ের রক্তশূন্যতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে আমরা চেষ্টা করব গর্ভবতী মায়েরা রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য কি কি উপায় অবলম্বন করবেন তা সম্পর্কে। সাধারণত রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১১ এর কম হলে একে গর্ভকালীন রক্তশূন্যতা বলা হয়ে থাকে।

গর্ভকালীন রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। সেগুলো হলো গর্ভধারণ করার আগে স্বাস্থ্যের যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। এছাড়াও যদি এ সময় দেখা যায় রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দশ গ্রামের কম আছে তবে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এই সময় রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য কিছু খাবার খেতে হবে।

এ খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। যেগুলোর মধ্যে মাংসের কলিজা, ডিম, সবুজ শাকসবজি, কলা, সিম, বেদানা, পেয়ারা অন্যতম। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেকআপ করাতে হবে।

সেই সাথে গর্ভধারণের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রত্যেক মাসে কমপক্ষে একবার হিমোগ্লোবিন এর পরীক্ষা করতে হবে। ২১ বছরের নিচে গর্ভধারণ না করাটাই সবচাইতে ভালো হবে। একটি সন্তান নেওয়ার পর কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করে সন্তান নিতে হবে। এভাবে আপনি রক্তশূন্যতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন।

অ্যানিমিয়া হলে করণীয়

অ্যানিমিয়া হলে করণীয় এ সম্পর্কে আপনাদের জানার আগ্রহ রয়েছে। চলুন আজকে আমরা অ্যানিমিয়া হওয়ার পর কি ধরনের পদক্ষেপ আপনি নিতে পারেন সে সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া যাক। সাধারণত অ্যানিমিয়া হয় যখন তখন লোহিত রক্ত কণিকা কমে যায়। আর বুঝতেই পারছেন এটি কমে যাওয়ার ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কমে যায়।

যেটি মোটেও ভালো কথা নয়। এখন আছেন অ্যানিমিয়া হলে আপনি কি করবেন? অ্যানিমিয়া হলে প্রথমে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডাক্তার যেভাবে বলবে সেরকম ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে।

আয়রন সমৃদ্ধ এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই খাবারগুলো খাওয়ার ফলে অ্যানিমিয়া রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। উপরের আলোচনাতে অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

শিশুর রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

শিশুর রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আপনারা জানতে চেয়েছেন। আজকের এই পর্বে ঘরোয়া উপায়ে শিশুদের কিভাবে রক্তশূন্যতা দূর করবেন তা সম্পর্কে জেনে নিব। শিশুদের রক্তশূন্যতা হওয়ার প্রধান কারণ হলো যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় না এবং লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ফলেও শিশুদের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

শিশুর-রক্তশূন্যতা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়
শিশুদের রক্তশূন্যতা দেখা দিলে শিশুদের ত্বক, ঠোট, হাত পায়ের তালুতে এক ধরনের ফ্যাকাসে ভাব দেখা দেই। এছাড়াও মাথা ঘোরা, বুক ধরফর করা, ক্লান্তি ভাব ইত্যাদি যাবতীয় সমস্যা রক্তশূন্যতার ফলে হয়ে থাকে। শিশুদের রক্তশূন্যতা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও কিছু খাবারের মাধ্যমে শিশুদের রক্তচনতা দূর হতে পারে।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আয়রন সমৃদ্ধ প্রাণিজ খাবারগুলো। যেমন ধরেন মাংস, কলিজা, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি। এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন পেয়ারা,আমরা, বড়ই ইত্যাদি খাওয়াতে পারেন। আবার আপেল, বেদানা, কলা, শুকনো ফল ও বাদাম শিশুদের রক্তশূন্যতা দূর করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যানিমিয়া হলে কি সমস্যা হয়

অ্যানিমিয়া হলে কি সমস্যা হয় এ ধরনের প্রশ্ন আপনারা প্রায় করে থাকেন। আজকের এই পর্ব থেকে অ্যানিমিয়া যখন হয় তখন কি ধরনের আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন তা সম্পর্কে জেনে নিব। অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে আপনার শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও যে কোন কাজ করলে আপনার শরীর দেখবেন খুব সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

আপনার শরীরের চামড়ায় ফ্যাকাসে ভাব দেখা যাবে। এছাড়াও অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে অদ্ভুত খাবারের লোভ সামলাতে পারবেন না। নতুন করে আবার শ্বাসকষ্ট সমস্যায় পড়ে যাবেন। এছাড়াও অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে লক্ষ্য করবেন ঘন ঘন মাথা ব্যথার সমস্যা হচ্ছে।

এ রোগ হলে যেকোনো কাজে বিরক্তকর আচরণ প্রকাশ পাবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন অ্যানিমিয়া হওয়ার ফলে আপনি এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে উপরের আলোচনা থেকে অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় তা জেনে আসতে পারেন।

লেখকের শেষ কথা

উপরের আলোচনা থেকে আমরা অ্যানিমিয়া কিসের অভাবে হয় এই সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আরো জানতে সক্ষম হয়েছি রক্ত স্বল্পতার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কেও। অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা অথবা রক্তশূন্যতা সবগুলোই একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই রোগ হওয়ার ফলে আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি হতে পারে।

তাই এই রোগ দ্রুত নিরাময় করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাবার এবং ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা অতীব প্রয়োজনীয়। উপরের আলোচনাতে এ রোগের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি উপরের আলোচনাটি পড়ার মাধ্যমে আপনারাও উপকৃত হতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url