রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন তা বিস্তারিতভাবে জেনে নিন

রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে জানা অতীব জরুরী। কারণ আপনি যখন তখন রাঙামাটি গেলে রাঙ্গামাটির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ঋতুতেই রাঙামাটি যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

রাঙ্গামাটি-ভ্রমণের-উপযুক্ত-সময়
রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে ধারণ নিতে হলে নিচের দেওয়া লেখা গুলি খুব যত্ন সহকারে পড়তে হবে। তাহলেই মূলত আপনি রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিতে পারবেন।

সূচিপত্রঃ রাঙামাটি ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন

রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন তা অনেকেই জানতে আগ্রহী। চলুন আজকের পর্বে রাঙ্গামাটি ভ্রমণে কখন করবেন? সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় জেলার নাম রাঙ্গামাটি। এই জেলাটি চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। আপনি যদি একজন পাহাড় ভ্রমণ পিপাসু হন, তাহলে আপনার জন্য রাঙামাটি হতে পারে সবচাইতে আদর্শ জায়গা।

প্রতিবছরই হাজারো দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে রাঙামাটি। বাংলাদেশ ছয়টি ঋতুর দেশ। এই ছয়টি ঋতুর মধ্যে পাহাড় ভ্রমণের সবচাইতে উপযুক্ত সময় শীতকাল। আপনি যদি এই সময় রাঙ্গামাটি ভ্রমণে আসেন, তবে দেখতে পাবেন কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি। শীতকালে রাঙামাটিতে হাজারো গাড়ির ভিড় জমে যায়।

আপনি যখন চাঁদের গাড়ি করে রাস্তায় ভ্রমণ করবেন, তখন সত্যিকারের ভ্রমণের স্বাদ পাবেন। আঁকাবাঁকা রাস্তা আপনার ভ্রমণে যুক্ত করবে এক অরিন্দম আনন্দ। রাঙ্গামাটিতে ১১ টি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের হাজারো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আপনাকে বিমোহিত করবে।

তাই বলা যায় যে রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময় শীতকাল। আপনি চাইলে দুই দিন অথবা তিন দিনের জন্য সময় নিয়ে রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করতে পারেন এবং উপভোগ করতে পারেন রাঙামাটির অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান।

রাঙ্গামাটি হোটেল এবং রিসোর্ট মূল্য ২০২৪

রাঙ্গামাটি হোটেল এবং রিসোর্ট মূল্য ২০২৪ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। চলুন আজকে আমরা ২০২৪ সালের রাঙামাটির হোটেলগুলোর ভাড়া, নাম রিসোর্টের মূল্য, নাম জেনে নিই। রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করার আগে আপনাকে অবশ্যই সেখানে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে হবে। এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে হোটেল কিংবা রিসোর্ট। তাই চলুন ২০২৪ সালের সেরা হোটেল এবং রিসোর্ট গুলো দেখে নিই। 

রাঙ্গামাটি হোটেল সমূহঃ

  • হোটেল মাউন্টেন ভিউ
  • সিদ্ধি ভবন, পর্যটন সড়ক, রাঙামাটি
    ০১৫৫৩৪৪০৩২৪

  • হোটেল গ্রীন ক্যাসেল
  • রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি
    ০১৭২৬৫১১৫৩২
    ০১৮১৫৪৫৯১৪৬

  • হোটেল সুফিয়া
  • কাঠালতলী, রাঙ্গামাটি
    ০১৫৫৩৪০৯১৪৯

উপরের নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করে হোটেলের ভাড়া সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। এখানকার ভাড়া প্রতিনিয়ত ওঠে নামা করে। তাই আপনার জন্য ফোন করে জেনে নেয়াওয়াটাই সবচাইতে ভালো হবে।

রাঙামাটির রিসোর্ট মূল্যঃ

  • Lakeshore Resort
  • রুম ভাড়াঃ ৪৫০০-৬৫০০ প্রতি রাতের জন্য
    কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
    ০১৮৫৯৭৭৮০৬৫

  • Hill Taj Resort
  • রুম ভাড়াঃ ৩০০০-২০০০০ প্রতি রাতের জন্য
    কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
    ০১৮৯০৩৩১০২১,০১৬০০৩৪৩৬৯৪

রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থান সমূহ

রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থান সমূহ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চাই। চলুন আজকে আমরা রাঙ্গামাটির মধ্যে যে সব দর্শনীয় স্থানসমূহ রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই। রাঙামাটিতে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলোঃ

উপজাতীয় জাদুঘরঃ এটি অবস্থিত রাঙ্গামাটি সদরে। আপনি রাঙামাটি ভ্রমণ করতে গেলে উপজাতীয় জাদুঘর ঘুরে আসতে পারেন। এই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা আছে।

কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডঃ এটির অবস্থান চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। রাঙামাটি ঘুরতে গেলে আপনি এই ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী পেপার মিলস দেখে আসতে পারেন। এখানে আপনি সড়ক পথে অথবা পানিপথে যেতে পারবেন।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানঃ কাপ্তাই উপজেলায় এটি অবস্থিত। বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ১৯৯৯ সালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ১৩,৫০০ একর জমির উপর নির্মিত হয়। এখানে আপনি সড়কপথে অথবা পানিপথে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান যেতে পারবেন। চট্টগ্রাম বহদ্দার হাট থেকে বাসযোগে অথবা মাইক্রো করে আপনি কাপ্তাই যেতে পারবেন। কাপ্তাই নতুন বাজার যাওয়ার অনেক আগেই কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান দেখতে পাবেন এবং সেখানে নেমে যেতে হবে।

সুবলং ঝর্ণাঃ রাঙামাটি শহর থেকে নৌকা করে এই ঝর্ণা যেতে হয়। রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। যাওয়ার পথে এঁকে বেঁকে বয়ে চলা কাপ্তাই হৃদয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। হৃদয়ের এই অপরুপ সৌন্দর্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এটাকে হালংবে বলে ডাকে। শুভলং ঝর্ণার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বর্ষা মৌসুমী আসার চেষ্টা করতে হবে।

ঝুলন্ত সেতুঃ দুটি পিলারের উপর কেবল দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই সেতু। এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৩৫ ফুট। দুইটি পাহাড়কে এই সেতু দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এই সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুটি দুলতে থাকে। পর্যটকদের কাছে এই সেতুটি অত্যন্ত মজার। ঝুলন্ত সেতুকে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের আইকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আপনি রাঙামাটি গেলে অবশ্যই এই সেতুটি ঘুরে আসবেন।

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড সম্পর্কে অনেকেই জানতে আগ্রহী। চলুন আজকে আমরা রাঙামাটি ভ্রমণের গাইড লাইন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই। যাতে আমরা খুব সহজেই রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করতে পারি। আপনি চাইলে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে ঢাকার গাবতলী, আরামবাগ অথবা কমলাপুর থেকে ডলফিন, শ্যামলী, সাউদিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের বাস রয়েছে। যে বাসগুলোতে করে আপনি রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন। এই বাসগুলোর জন্য ভাড়া পড়বে নন এসি ৬২০ টাকা এবং যাদের এসি বাস দরকার তাদের জন্য ভাড়া পড়বে ১৪০০ টাকা। ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার জন্য সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘন্টার মতোন।

এছাড়াও আপনি চাইলে চট্টগ্রাম থেকেও রাঙ্গামাটি আসতে পারেন। এজন্য আপনাকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকাতে এসে রাঙামাটির বাস টার্মিনাল এ যাবেন। সেখান থেকে পাহাড়িকা ও লোকাল বাসের মাধ্যমে আপনি রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন। এই বাসগুলো পেতে আপনাকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। পাহাড়িকা বাসের ভাড়া পড়বে ১১০ টাকা এবং লোকাল বাসের ভাড়া দিতে হবে ৮৫ টাকা। 

আপনি যদি পাহাড়ি বাসে রাঙ্গামাটি যেতে চান তবে সময় লাগবে ২.৩০ ঘন্টা এবং আপনি যদি লোকাল বাসে যেতে চান তাহলে সময় লাগবে ৩.৩০ ঘন্টা মতোন। এই রুটে এই বাসগুলো সকাল ৭ হতে রাত ৮ পর্যন্ত চলাচল করে থাকে। এছাড়াও যাদের বিলাসবহুল বাসের প্রয়োজন রয়েছে তারা হানিফ, ইউনিটসহ ভালো মানের বাসে করে রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করতে পারবেন। রাঙামাটি যাওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই রাঙ্গামাটি হোটেল এবং রিসোর্ট মূল্য ২০২৪ কত তা জেনে নিতে হবে।

রাঙ্গামাটি খাবার হোটেল

রাঙ্গামাটি খাবার হোটেল সম্পর্কে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। চলুন আজকে আমরা রাঙামাটি যাওয়ার পর সেখানকার সবচাইতে ভালো হোটেল গুলো অর্থাৎ খাবার হোটেল সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই। রাঙ্গামাটিতে অনেকগুলো খাবারের হোটেল রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বনরূপা এলাকা- কুটুমবাড়ি, হোটেল মক্কা, কাঠালতলী এলাকা-হোটেল হিল জামান ইত্যাদি।

রাঙ্গামাটি-খাবার-হোটেল
হোটেল গুলোতে খাওয়ার আগে অবশ্যই প্রত্যেকটি খাবারের দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন। এইসব হোটেল গুলোতে সেদ্ধ চালের ভাত রান্না হয়ে থাকে। এখানে যদি আপনি দুপুরের খাবার খান তবে খাবারের মূল্য ১২০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে হবে। এছাড়াও আপনি যদি পাহাড়ি খাবারগুলো খেতে যান তবে আপনাকে শহরে গিয়ে সাবারাং রেস্তোরাঁ এবং হোটেল ক্যাবাং এ যেতে হবে।
সেখানে গিয়ে আপনি পাহাড়ি খাবার ব্যাম্বু চিকেন খেতে পাবেন। এছাড়াও কাপ্তাই লেকে কয়েকটি হোটেল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দ্বীপ রেস্তোরাঁ, জুমঘর রেস্তোরাঁ, চাংপাং এসব রেস্তোরাতে গিয়ে আপনি চাইলে খেতে পারেন। এগুলোতে খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও খাবারের পরিবেশটা অসাধারণ।
এছাড়াও পেদা টিং টিং নামে আরেকটি হোটেল রয়েছে যেটি অবস্থিত রাঙ্গামাটি শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই হৃদয়ের ভাসমান একটি পাহাড়ের উপর। এই রেস্টুরেন্টে গিয়ে আপনি ব্যাম্বু চিকেন, বিগল বিচি, কচি বাশেঁর তরকারি, কেবাং এবং কাঁচকি ফ্রাই ইত্যাদির নানা সুস্বাদু খাবার খেতে পারবেন।

বাংলাদেশের সব থেকে বড় জেলার নাম কি

বাংলাদেশের সব থেকে বড় জেলার নাম কি? এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়। চলুন আজকে আমরা সব চাইতে বড় জেলার নাম কি? এবং তার সম্বন্ধে যাবতীয় তথ্য জেনে আসি। বাংলাদেশের মধ্যে সবচাইতে বড় জেলার নাম রাঙ্গামাটি। এটির মোট আয়তন ৬১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের যতগুলো জেলা রয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে বড় জেলা হচ্ছে রাঙ্গামাটি।

চট্টগ্রাম বিভাগে রাঙামাটি জেলার অবস্থান। এই জেলাটি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। প্রতিবছরই হাজারো দর্শনার্থীদের সমাগমে মুখরিত থাকে রাঙামাটি জেলা। এ জেলাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনায়াসে আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই জেলাটি ভ্রমণের আসল সৌন্দর্য পাওয়া যায় যখন আপনি চাঁদের গাড়িতে করে রাঙ্গামাটির পাহাড়গুলো দেখতে দেখতে ভ্রমণ করবেন।

তাই আপনার যদি রাঙ্গামাটি ভ্রমণ না হয়ে থাকে, তাহলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের সবচাইতে বড় জেলা রাঙ্গামাটির আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এছাড়াও আপনি জেনে নিতে পারেন রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন সে সম্পর্কেও।

রাঙ্গামাটি কেন বিখ্যাত

রাঙ্গামাটি কেন বিখ্যাত? এ সম্পর্কে আপনারা প্রশ্ন করে থাকেন। চলুন আজকে আমরা রাঙ্গামাটি কিসের জন্য বিখ্যাত? সেই সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিই। রাঙামাটিতে রয়েছে নানা রকম দর্শনীয় স্থান। এই দর্শনীয় স্থানগুলোই রাঙ্গামাটিকে বিখ্যাত করার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্যই প্রতিবছর পর্যটকদের ভিড় জমে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর।

বাংলাদেশের রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজার রাজবাড়ী, কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, টুকটুক ইকো ভিলেজ, তিনটিলা বনবিহার, ন-কাবা ছড়া ঝর্ণা, নৌ বাহিনীর পিকনিক স্পট, পেদা টিং টিং, ফুরমোন পাহাড় ইত্যাদি। এগুলোই মূলত রাঙ্গামাটিকে বিখ্যাত করার পেছনে আসল ভূমিকা পালন করে থাকে।

রাঙ্গামাটির পুরাতন নাম কি

রাঙ্গামাটির পুরাতন নাম কি? এই সম্পর্কে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। চলুন আজকে আমরা রাঙামাটি জেলার পুরাতন নাম কি ছিল? সেই সম্পর্কে জেনে আসি। রাঙ্গামাটি জেলার পূর্বের নাম ছিল কার্পাস মহল।

রাঙ্গামাটির-পুরাতন-নাম-কি
১৮৮০ সালের ২০ জুন রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই ৩টি পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোকে একত্র করে চট্টগ্রাম জেলার আবির্ভাব হয়। ১৯৮১ সালে বান্দরবন জেলার সৃষ্টি হয়। আর খাগড়াছড়ি জেলা সৃষ্টি হয় ১৯৮৩ সালে। এর ফলে চট্টগ্রাম জেলার মূল অংশ হয় রাঙ্গামাটি। বর্তমান সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে রাঙ্গামাটি হচ্ছে সবচাইতে বড় জেলা এবং একই সাথে বাংলাদেশের মধ্যেও সবচাইতে বড় জেলার নাম রাঙামাটি।
ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি জেলার দূরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার। এবং চট্টগ্রাম সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এই জেলাটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। আপনি চাইলে রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন? তা জেনে নিয়ে রাঙ্গামাটি ঘুরে আসতে পারেন।

রাঙ্গামাটি দেখার মত কি কি আছে

রাঙ্গামাটি দেখার মত কি কি আছে? এ ধরনের প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। চলুন আজকে আমরা জেনে নিই রাঙ্গামাটি গেলে আপনি কি কি দেখতে পাবেন? আপনি যখন রাঙ্গামাটি যাবেন তখন প্রথম যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটা ভ্রমণ করতে পারবেন সেটা হল আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। তারপর রাঙামাটি গিয়ে সেখানকার আদিবাসীদের জীবনধারা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি উপভোগ করতে পারবেন। 

এছাড়াও আপনি রাঙামাটির বিভিন্ন নতুন নতুন খাবার খেতে পারবেন। যা সত্যিই অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাম্বু চিকেন এবং কচি বাশেঁর তরকারি। এছাড়াও আপনি নানা ধরনের দর্শনীয় স্থান দেখতে পারবেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলোঃ 

  • কাপ্তাই লেক
  • শুভলং ঝর্ণা
  • সাজেক ভ্যালি
  • ঝুলন্ত ব্রিজ
  • কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  • ডিসি বাংলা পার্ক
  • উপজাতি জাদুঘর
  • কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান
  • পেদা টিং টিং
  • যমচক পাহাড়
  • টুকটুক ইকো ভিলেজ
  • পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
  • নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্র
  • বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য
  • ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ী
  • রাজবন বিহার, সুখী নীলগঞ্জ
  • কর্ণফুলী পেপার মিলসসহ 

ইত্যাদি নানা দর্শনীয় স্থান। আপনি চাইলে রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন তা জেনে নিয়ে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করে আসতে পারেন রাঙামাটি জেলা। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা দেখতে দেখতে চলে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা।

লেখকের শেষ কথা

রাঙ্গামাটি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে উপরে আলোচনায় বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়াও রাঙ্গামাটি হোটেল এবং রিসোর্ট মূল্য ২০২৪ কত? তা উপরের আলোচনায় ভালোভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনাদের মধ্যে কেউ যদি রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করতে চান, তবে রাঙ্গামাটি ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য যাওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন।

কোথাও যেতে হলে সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেখানকার কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সে সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে সেখানে গিয়ে সেগুলো নির্ণয় করতে সুবিধা হয়। রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করতে যাওয়ার আগে সেখানে গিয়ে কোথায় থাকবেন? কি ধরনের খাবার খাবেন? কোন কোন জায়গায় গুলো ঘুরে দেখবেন?

তা আগে থেকেই জেনে নিবেন। তাহলে আপনার জন্য রাঙামাটি ভ্রমণটা অনেক আনন্দেক হবে। এছাড়াও কিভাবে রাঙামাটি যাবেন? যানবাহনের ভাড়ায় বা কত? সেগুলোও জেনে নিবেন। সর্বশেষ আপনার রাঙ্গামাটি ভবন শুভ এই কামনাই করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিটেক্স আইটি নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url